Toggle Menu

জাহানারা

9:00 pm - 9:30 pm

এই গল্প জাহানারার। অফুরন্ত প্রাণশক্তি সম্পন্ন এক মেয়ে। পেশায় উকিল। ছোটবেলা থেকে তার স্বপ্ন সেই মানুষ গুলোর পাশে দাঁড়ানো যারা ধর্মের নামে নিপীড়িত। তার ও তার দিদি রুবিনার বড় হওয়াটা তাদের ছোট্ট শহরের অন্যান্য প্রতিবেশীদের তুলনায় একদম এ অন্যরকম। এর পুরো কৃতিত্বই তার বাবা নিজামুদ্দিন শেখ এর উন্নত দৃষ্টিভঙ্গির। নিজামুদ্দিন শেখ জেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রোফেসর এবং একজন ধর্মনিষ্ঠ মানুষ। কিন্তু তার পড়াশোনা এবং গভীর চিন্তা ভাবনা তাকে সবসময়ই ধর্মকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে বাঁধা দিয়েছে। যখনই সে আসেপাশে দেখেছে মানুষ ধর্মের নামে পথভ্রষ্ট হচ্ছে তার বিরুদ্ধে রুখে দারিয়েছে। আর এই শিক্ষাতেই বড় করে তুলেছে দুই মেয়েকে। জাহানারা, তার দিদি এবং তার বাবা যেন এক অন্য জগতে বাস করে। আলকিত এক জগত। কিন্তু কোন কিছুই যে চিরস্থায়ী নয়। বাবার এই ছায়া ছেড়ে রুবিনা কে বিয়ে করে চলে যেতে হয় শ্বশুরবাড়ি। এবং খুব অল্প সময়ের মধ্যেই রুবিনা বুঝতে পারে তার এই নতুন বাড়ি সম্পূর্ণই আলাদা। এই মানুষগুলো গোঁড়ামিতে ভরা। কিন্তু রুবিনা তার বোনের মত প্রতিবাদী নয় তাই সে এই নতুন বাড়ির নিয়ম নীতির সাথে মানিয়ে নিতে শুরু করে। কিন্তু রুবিনার কপালে অপেক্ষা করছে আরও বড় আঘাত, সে জানে না তার শোহার আসলে পছন্দ করে তার নিজের বোনকে। এদিকে জাহানারা ভালবাসে রুহানকে। রুহান একজন পুলিশ অফিসার। তাদের ভালোবাসা দেখে বাড়ির লোক ঠিক করে তাদের বিয়ে দেবে কিন্তু আশরাফের জাহানারাকে পাওয়ার ইচ্ছা তা ঘটতে দেয়না। বিয়ের দিন বরের সাজে রুহানের জায়গায় আসে আশরাফ। সেহড়ার পিছনে থাকা আশরাফকে কেও চিনতে পারেনা বিয়ে হয়ে যায়। যখন সবাই রুহানের জায়গায় আশরাফ কে দেখে সবাই অবাক। জাহানারা এই বিয়ে অস্বীকার করে কিন্তু তখন আব্দুল খান, আশরাফের বাবা, জাহানারাকে ব্ল্যাকমেল করে যে সে যদি সবার সামনে স্বীকার না করে যে আশরাফ কে সে ভালোবেসে বিয়ে করেছে তবে তার সব প্রিয়জনদের ক্ষতি সে নিজের চোখের সামনে দেখতে পাবে। জাহানারা কোন পথ পায়না ও আব্দুল খানের কথা মেনে নেয়। তার বাবা, আপা, রুহান সবাই তাকে ভুল বোঝে। এখন জাহানারার সামনে এক কঠিন পথ। তার পাশে আর কেও নেয়। তাকে তার প্রিয়জনদের জীবন বাঁচাতে হবে এবং তার জন্য তাকে লড়তে হবে একা।